কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে আত্মনির্ভর ভারত প্রসঙ্গ

From enIKSwiki
Jump to navigation Jump to search

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে আত্মনির্ভর ভারত প্রসঙ্গ

ড পারমিতা রায়

সহকারী অধ্যাপিকা এবং ‘স্বামী অভেদানন্দ চেয়ার’

সংস্কৃত এবং দর্শন বিভাগ

রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ শৈক্ষিক ও গবেষণা সংস্থা

পোস্ট অফিস--বেলুড় মঠ, জেলা--হাওড়া ৭১১২০২, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ

১। ভূমিকা

যে কোন রাজত্বের স্বনির্ভরতা বিশেষ ভাবে তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতার উপর নির্ভর করে।  কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র অধ্যয়নে বোঝা যায় কীভাবে একজন দক্ষ প্রশাসক রূপে রাজত্বকে শক্তিশালী করার উদ্দেশে কৌটিল্য তাঁর রাজত্বের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই সমস্ত ক্ষেত্রের মধ্যে শিল্পের বিকাশ এবং প্রসারতার প্রচেষ্টা লক্ষণীয় যা কৌটিল্যের রাজত্বের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে কর্মসংস্থান এবং উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছিল। এমন প্রচেষ্টার ফলে শুধুমাত্র রাজত্বের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা যে সম্ভব হয়েছিল তা নয় বরং প্রশাসক কীভাবে যথাযথ রূপে রাজ্যের নাগরিকগণের দক্ষতাকে চিহ্নিত করেছেন এবং সেই দক্ষতাকে সঠিক ভাবে কাজে প্রয়োগ করেছেন সেটি বুঝতেও সাহাজ্য করে। প্রশাসকের এমন অন্তর্দৃষ্টি এবং বিচক্ষণতা প্রশংসনীয়, কারণ তিনি এমন কোন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি যার মাধ্যমে রাজত্বের উন্নতি সম্ভব। বর্তমান সমাজে বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের গুরুত্ব স্বীকার করা হচ্ছে। এই নিবন্ধে আমরা দেখবো কীভাবে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে সকল নাগরিকগণের বৃত্তিমূলক জ্ঞানকে প্রশাসক রাজত্বের সার্বিক উন্নতির স্বার্থে ব্যাবহার করেছেন যা বর্তমান সময়কালে যে কোন দেশের প্রশাসকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২। সারসংক্ষেপ (Summary)

কৌটিল্য তাঁর রাজত্বে বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন এবং এই ভাবে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলির সম্মুখে একটি ইতিতবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের বিবিধ দিকের উল্লখ এবং তাদের সম্প্রসারণ কীভাবে দক্ষ আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে সম্ভব হয়েছিল তার প্রমাণ অর্থশাস্ত্রে বিভিন্ন বিভাগের উপস্থিতি এবং সেই সকল বিভাগের কর্মচারীদের দায়িত্ব সম্পাদন দ্বারা প্রমাণিত হয়।  বর্তমান সমাজ-ব্যবস্থাতে আমাদের প্রয়োজন দেশের নাগরিকের বৃত্তিমূলক দক্ষতাকে চিহ্নিত করে তার অর্থপূর্ণ ব্যবহার করা এবং শ্রমের মর্যাদার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর জাতি গঠনের লক্ষে অগ্রসর হওয়া। এর ফলস্বরূপ নাগরিকগণের মধ্যে সামাজিক মর্যাদার তারতম্যের অবসান ঘটবে। এই প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি উল্লেখ্য যেখানে উনি স্পষ্ট ভাবে বলছেন যে সেটাই প্রকৃত শিক্ষা যার দ্বারা চরিত্র গঠন হয়, মনের শক্তি বৃদ্ধি পায়, বুদ্ধি প্রসারিত হয় এবং যার দ্বারা মানুষ নিজের পায়ে দাড়াতে পারে (CWSV5:347)। অর্থশাস্ত্রে কৌটিল্যের এমন এক দক্ষতা থেকে বুঝতে পারি যে   তার রাজনৈতিক স্ট্রেটেজি কীভাবে রাজত্বের নাগরিকগণকে নিজস্ব পরিচিতি লাভ করতে এবং আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করেছে।

৩। পরম্পরা (Lineage)--আত্মনির্ভর ভারতের ইতিহাস

মানুষের আত্মনির্ভরতা একটি মৌলিক গুণ যা তাকে একটি অর্থপূর্ণ (meaningful) জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। নিজ শক্তি এবং সামর্থ্যের বিষয় অবগত হয়ে এবং তার উপর নির্ভর করে মানুষ জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হতে পারে। এমনই উপদেশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখা ও শিষ্য অর্জুনকে ভগবদগীতাতে দিচ্ছেন। নিজের আত্মীয় পরিজনকে যুদ্ধক্ষেত্রে দেখে অর্জুন মনবল হারিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে চাওয়ায় ভগবান তাকে কাপুরুষতা এবং মনের সকল দুর্বলতা পরিত্যাগ করে ক্ষত্রিয় সুলভ স্বধর্ম পালন করতে বলছেন । অর্জুনকে ক্ষত্রিয়ের কর্তব্য পালন করতে হবে এবং সম্মুখে উপস্থিত শত্রুদের পরাস্ত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অন্তরের সমস্ত দুর্বলতাকে আত্মশক্তি সহকারে দমন করা।[1] এমন উপদেশের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের অন্তর্ননিহিত আত্ম-শক্তিকে জাগরণ করতে চেয়েছিলেন। অর্জুন যেহেতু সমস্ত মানবজাতির প্রতিনিধিস্বরূপ, তাই ভগবানের এই উপদেশ আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্যও প্রযোজ্য। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় পার্থকে আধ্যাত্মিক আত্ম-জ্ঞান দানের মাধ্যমে সেই পরমাত্মার (যেটি সর্বভূতস্থ-আত্মস্বরূপ থেকে অভিন্ন) স্বরূপ বিষয় অবগত করাছেন যার জন্ম-মরণ, ক্ষয়-বৃদ্ধি, বিকারাদি নেই,  যেটি নিত্য-শুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্ত, শাশ্বত সত্য। নিজের প্রকৃতাত্মা-স্বরূপ সম্বন্ধে অবগত না হওয়ার কারণেই আমাদের সকল দুঃখ, শোক-মোহ, ভয় ইত্যাদি।  এই সমস্ত দুর্বল ভাব থেকে মুক্তি লাভের একমাত্র উপায় হল আধ্যাত্মিক অনুভুতি, আত্ম-জ্ঞান, যেটি চিরতরে শোক-মোহ দুঃখ সাগর থেকে আমাদের উদ্ধার করে।[2] শ্বেতাশ্বতরোপনিষদে আমাদের প্রকৃত স্বরূপ বিষয় অবগত করানো হচ্ছে যে আমরা সকলেই ‘অমৃতস্যপুত্রা’ অর্থাৎ অমৃতের সন্তান।[3] সুতরাং, যাকে শস্ত্রসকল ছেদন করতে পারে না, অগ্নি দহন করতে পারে না, জল আদ্র করে না, বায়ু যাকে শোষণ করে না, এইভাবে অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য, সেই নিত্য, অচল, অব্যক্ত, অচিন্ত বিকার-রহিত আত্মাকে জেনে অনুশোচনা করা উচিৎ নয়।[4]

ভারতবর্ষের ঐতিহ্য হল আধ্যাত্মিকতা যা মানুষকে আত্মবল প্রদান করে। বাহ্য কোন কিছুর উপর নির্ভর না করে নিজের স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমাদের সেইরকম প্রস্ততি নেওয়া দরকার। আত্মবল তখনই লাভ হয় যখন দৈহিক, মানসিক বিকাশ ঘটে। ভারতীয় ধর্ম-পরম্পরা, জ্ঞান-পরম্পরা, জ্ঞান-সম্প্রদায়, ঐতিহ্য, দু’টি আদর্শের উপর স্থিত হয়ে আছে---একটি, অভ্যুদয় (প্রবৃত্তি ধর্ম) এবং দ্বিতীয়, নিঃশ্রেয়স (নিবৃত্তি ধর্ম)। প্রবৃত্তি এবং নিবৃত্তি এই দুইয়ের সমান গুরুত্ব দিয়েই ভারতবর্ষের উন্নতি সাধিত হয়েছে।[5] ভারতবর্ষের ঐতিহ্য হল চর্চা এবং চর্যা কখনো পৃথক করে না দেখা। তাই মানুষকে কীভাবে এই জাগতিক পরিমন্ডলে স্বনির্ভর করা যায় যাতে করে সে তার নিজের উন্নতির পথ নিজে খুঁজে নিতে পারে তার প্রয়াস যুগযুগান্তর ধরে চলে আসছে। স্বামী বিবেকানন্দের মত অনুসারে অন্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকাটাই হল দাসত্ব স্বীকার করা (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা,  ১৯৬৪, তৃতীয় খণ্ড, পৃ.৫৪)। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত, বহু পাঠিত, চর্চিত, উদ্ধৃতৌক্তি, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”[6]—এই বীরবানী চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আত্মনির্ভর ভারতের ধারণার একটি ইতিহাস রয়েছে। স্বদেশী আন্দোলন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পূর্বের সফলতম ঘটনা বলা বিবেচিত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গ বিভাজনের পরে স্বদেশী আন্দোলন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। স্বদেশী আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল অর্থনৈতিক উদারতা (economic liberality) যার ফলে দেশীয় সকল পণ্য বিশ্বের বাজারে প্রবেশের সুযোগ লাভ করে। কিন্তু এর কারণে দেশীয় ব্যবসায়িকগণের সঙ্গে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের একটি কঠোর প্রতিযোগিতা দেখা দেয় যেহেতু বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা অনেক কম দামে উচ্চ মানের পণ্য প্রদান করে। এমন প্রতিযোগিতার কারণে অনেক দেশীয় শিল্প বহুজাতিক সংস্থার অধীনে চলে যায় যদিও কিছু দেশীয় শিল্প তাদের নিজস্ব ‘ব্র্যান্ড’ নাম বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে যেমন টাটা, রেমন্ড, গোদরেজ ইত্যাদি। মনে করা হয় যে এখন সেই সঠিক সময় উপস্থিত হয়েছে যখন আমরা আমাদের অর্থ নিজেদের দেশের মাটিতে বিনিয়োগ করব।[7] এই প্রসঙ্গে বিশেষ স্মরণীয় স্বাধীনতার বহু আগে, ১৮৯৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে একই জাহাজে স্যার জামশেদজি টাটার শিকাগি-মুখি যাত্রা এবং সেই সময় জামশেদজির উদ্দেশে স্বামীজীর উপদেশ যে আত্ম-নির্ভরতার মুখ্য সোপান হল আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি শিক্ষা এবং সেই জন্য একটি বিশেষ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা (Tata, no date)। বর্তমানে স্বাধীন ভারতবর্ষে ‘Indian Institute of Science’ (যেটি টাটা ইন্স্টিটিউট নামে শুরু হয়েছিল) নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের আত্ম-নির্ভরতার উজ্জ্বল বার্তা বহন করে চলেছে। স্বাধীন ভারতের প্রথম মুখ্য নীতি নির্ণয়পত্র (first major policy document) হল ১৯৪৮ সালের শিল্প নীতি যার মাধ্যমে ভারতবর্ষের অগ্রগতির "জাতীয় সম্মতি" প্রতিধ্বনিত হয়।[8] এই "জাতীয় সম্মতি"-র পশ্চাতে রয়েছে মিশ্র অর্থনীতি (mixed economy) এবং স্বনির্ভরশীলতার বার্তা।[9] এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সময়ে, ভারতের গ্রীন রেভোলিউশন (Green Revolution) এবং ওয়াইট রেভোলিউশন (White revolution)--অপারেশন ফ্লাড (Operation Flood), ভারতকে স্বনির্ভর দুগ্ধ ও চা সহ কৃষি পণ্যে একটি বিশ্ব নেতৃত্ব প্রদান করার দেশের ক্ষমতাতে উত্তীর্ণ করে।[10] ভারতবর্ষের পঞ্চবর্ষীয় পঞ্চম পরিকল্পনার (১৯৭৪–১৯৭৮) একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভরতা, অন্য দু’টি লক্ষ্য হলো জিডিপি (GDP) এবং দারিদ্র্য সম্পর্কিত।[11]

Top of Form

Bottom of Form

৪। কৌটিল্যের আত্মনির্ভর রাজত্ব: অর্থ উপার্জনের বিবিধ দিক

কৌটিল্যের রাজত্বে অর্থ উপার্জনের বিবিধ দিক রয়েছে এবং সেই সকল ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়োগেরও ব্যাবস্থা রয়েছে।

৪.১ খনি এবং ধাতু (Mining and Metallurgy)

খনি কাজের পরিচালনার জন্য নিযুক্ত অধ্যক্ষ হলেন আকারাধ্যক্ষ যিনি শুল্বশাস্ত্র (ভূমি পরীক্ষা করার শাস্ত্র যার দ্বারা কূপ খনন ইত্যাদি বিষয় বোঝা হয়), ধাতুশাস্ত্র (যে শাস্ত্রের মাধ্যমে সর্জিকা, গন্ধক প্রভৃতি দিয়ে বিভিন্ন ধাতুর শক্তি বৃদ্ধি করানো হয়) রস (যে বিদ্যার দ্বারা বিভিন্ন ধাতুকে অগ্নির সাহায্যে গলিত করা হয়), পাক (কনক ইত্যাদি ধাতুকে অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে বর্ন দান করা) এবং মনিরাগ (মনিসমুহকে বর্ন দান করারা জ্ঞান) বিষয় একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হয়ে এইসব বিষয়ে কাজ জানা অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কাজের সাহায্যের জন্য নিয়োগ করতেন।[12] উৎপত্তি স্থান থেকে ধাতুসমুহ সংগ্রহীত করে তা নির্দিষ্ট ধাতু কারখানাতে শোধিত করার স্বার্থে পাঠানো হত।[13] এ ছাড়া বলা আছে যে স্বর্ণ-রত্নাদি খনির অধ্যক্ষ শঙ্খ, হীরা, রত্ন মুক্তা, প্রবাল এবং ক্ষারদ্রব্যের কারখানা স্থাপন করে এই সমস্ত সামগ্রীর বাণিজ্যিকরণ করবেন।[14]

যেন কোন দেশের আমদানির ক্ষেত্রে খনি এবং ধাতুবিদ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ভারতবর্ষেকে খনি শিল্প $৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষে পৌঁছে দিতে সক্ষম এবং খনি শিল্পকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রতিপত্তির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ বলে বিবেচনা করা হয়।[15] এমনটি হলে ভারত সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। ভারত সরকার দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার করে একটি দেশীয় শিল্পকে স্থাপন করতে ইচ্ছুক যার ফলে বহির আমদানি কমবে এবং ভারতের জিডিপি-তে (GDP) খনিজ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

৪.২ টাঁকশাল (Mint Industry)

অর্থশাস্ত্রে টাঁকশাল-এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কথা পাই এবং এই বিভাগের দায়িত্বে যিনি আসীন তাঁকে কি কি কর্তব্য পালন করতে হবে তা পুরনাঙ্গ রূপে আলোচনা করা হয়েছে। লক্ষণাধ্যক্ষ হলেন টঙ্কশালাধ্যক্ষ যিনি রূপা, তামা, ইত্যাদির দ্বারা মুদ্রা নির্মাণ করবেন।[16]

৪.৩ লবণ বাণিজ্য (Salt Industry)

অর্থনৈতিক লাভের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল লবণ। যদিও লবণ আন্দোলনের পূর্বে ভারতের দরিদ্র মানুষের কাছে লবণ একটি মূল্যবান পণ্য ছিল কিন্তু মহাত্মা গান্ধি (১২.০৩.১৯৩০) তাঁর প্রতিবাদের[17] মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের লবণ নীতি ভাঙ্গার ঘোষণা করেছিলেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পরে লবণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে লবণ শিল্প বিকাশের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থশাস্ত্রে লবণ শিল্পের জন্য প্রধান অধ্যক্ষ হলেন লবনাধ্যক্ষ যিনি কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন। লবনাধ্যক্ষ সঠিক সময় আকর লভ্য লবণ এবং প্রক্রয় লভ্য লবণ পাকমুক্ত হলে (ব্যবহারের উপযোগী হলে) তা সংগ্রহ করবেন এবং লবণ বিক্রয় লব্ধ মুল্য রূপ বা নগদ টাকা রূপে নেবেন এবং মুল্যের উপর শতকরা পাঁচ পণ ব্যাজী (ফাও) আদায় করবেন।[18] এছাড়া লবনাধ্যক্ষ অসাধু ব্যবসা দমন করার জন্য জরিমানা ধার্য করবেন। যে সকল ব্যক্তি রাজার অনুমতি ছাড়া লবণ উৎপাদন করে এবং তার সাহায্যে জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের একহাজার পণ জরিমানা দিতে হবে কিন্তু এই নিয়ম বানপ্রতস্থাবলম্বীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। [19]

৪.৪ ধাতু এবং রত্ন (Gems and Jewellery)

অর্থশাস্ত্রের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আয়ের ক্ষেত্র হল মূল্যবান ধাতু এবং রত্ন। স্বর্ণ এবং রৌপ্য প্রভৃতির সংশোধন এবং তা নিয়ে বিভিন্ন নির্মাণ কাজে যিনি নিযুক্ত ছিলেন তিনি হলেন সুবর্ণাধ্যাক্ষ। বলা আছে যে সুবর্ণাধ্যক্ষ স্বর্ণ এবং রৌপ্য তৈরির জন্য একটি অক্ষশালা নির্মাণ করাবেন যেখানে চারটি শালা (গৃহ) থাকবে এবং যে গৃহগুলি পরস্পর অনুপশ্লিষ্ট হবে (অর্থাৎ একটি গৃহ থেকে অন্য গৃহে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে না) এবং সেই কারণে একটি মাত্র দ্বার থাকবে।[20] এই কাজে দক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে, তার সততা, জন্ম বৃত্তান্ত বিষয় সমস্ত যাচাই করে নেওয়ার দায়িত্ব সুবর্ণাধ্যাক্ষের।[21] এছাড়া অর্থশাস্ত্রে প্রমিতকরনের জন্যও অধ্যক্ষ নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে যিনি অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অলঙ্কার নির্মাণ গৃহে (ওয়ার্কশপে) কারোর প্রবেশ করাবেন না।[22] শিল্পিরা নিজ নিজ কাজ সম্পাদনের জন্য যে স্বর্ণ গ্রহণ করবে, সেই স্বর্ণ থেকে প্রস্তুত অলংকারের বিবরণ নিজ নিজ পুস্তকে লিপিবদ্ধ করবে এবং পরে সুবর্ণাধ্যক্ষের সামনে সেই স্বর্ণ রাজকোষে গচ্ছিত রাখার জন্য দান করবে।[23] এছাড়াও সুবর্ণাধ্যক্ষের নির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা বলা আছে। জিনিসের মানের পতনে জরিমানারও উল্লেখ আছে।[24] স্বর্ণকারের এই পেশা এবং দক্ষতাকে বর্তমান সমাজে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পেশার মত স্বীকৃতি এবং মর্যাদা দেওয়া দরকার।

আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ (National Education Policy 2020) শ্রমের মর্যাদা রক্ষা করার কথা বলেছে এবং এটি করা যেতে পারে যখন আমরা বৃত্তিমূলক জ্ঞানকে সম্মান করব এবং মূল স্রোতের শিক্ষার (mainstream education) মধ্যে এদের অন্তর্ভুক্ত করব।



৪.৫ বস্ত্র বাণিজ্য (Textile Industry)

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে উর্ণা ইত্যাদি থেকে উৎপন্ন সুতো কাটা এবং তা দিয়ে বস্ত্র বুনানের উল্লেখ আছে এবং এই বিষয় দেখাশুনো করার জন্য যিনি আধিকারিক ছিলেন তিনি হলেন সূত্রাধ্যক্ষ। সূত্রাধ্যক্ষ সূত্র, চর্ম, বস্ত্র, এবং দড়ি ব্যবসা এবং শিল্পের উন্নয়ন সেই সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞের দ্বারা করাবেন।[25]

বস্ত্র শিল্প দেশের একমাত্র শিল্প যা স্বনির্ভর কারণ প্রতিটি পর্যায় পণ্যগুলি পরবর্তী পর্যায়ে উৎপাদনের কাচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বব্যাপী পাট উৎপাদনে ভারত প্রথম স্থান অধিকারী এবং বিশ্বের মানচিত্রে ৬৩% বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ, রেশম এবং তুলা উৎপাদনে ভারত দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।[26] বিশ্ব এখন নতুন আশার আলো দেখছে বস্ত্র উৎপাদনে এবং এখানে ভারতবর্ষের অবদান অত্যন্ত ইতিবাচক। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কীভাবে সেই সময় প্রশাসক অর্থ উপার্জনের জন্য অন্য সকল ক্ষেত্রের মধ্য থেকে বস্ত্র উৎপাদনকে যথাযথ ভাবে নির্বাচন করেছিলেন।

৪.৬ অর্থশাস্ত্রে পন্যাধ্যক্ষের কর্তব্য

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে বিস্তৃত ভাবে বানিজ্য ও ব্যবসার উল্লেখ করা হয়েছে যা শুধুমাত্র অনান্য প্রতিবেশী অঞ্চলের সঙ্গে কৌটিল্যের নিজ অঞ্চলের সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় না বরং এর ফলে যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব উপার্জন সম্ভব হয়েছিল তার উপরও আলোকপাত করে। উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে পণ্যগুলি কেবলমাত্র উন্নত পরিবহণের দ্বারাই সেই সমস্ত সামগ্রির ঘাটতি থাকা অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই সমস্ত দায়িত্ব পন্যাধ্যক্ষের উপর বিন্যস্ত ছিল যিনি হলেন পণ্য অর্থাৎ রাজকীয় দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে নিযুক্ত রাজকর্মচারী। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে এমন রাজকর্মচারীর কি কি বিষয় পারদর্শিতা থাকবে তা বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে পন্যাধ্যক্ষ বিবিধ স্থলোৎপন্ন, জলজ, স্থলপথ, জলপথ হতে আগত নানা ধরণের পণ্যসামগ্রীর মধ্যে মুল্যের তারতম্য এবং কোন্ পণ্য জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয় বা অপ্রিয় এই সকল বিষয় অবগত থাকবেন এবং এমন ভাবে সেই সমস্ত পণ্যের বিক্ষেপ (পণ্য বিক্রয়ের জন্য অন্য অঞ্চলে চালান করা), সংক্ষেপ (বিশেষ কোন দ্রব্যকে অন্য জায়েগা থেকে আমদানি করে এক জায়েগাতে সংগ্রহ করা), বিক্রয় এবং প্রয়োগের যথাযথ সময় জেনে রাখবেন।[27]


৪.৭ কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে শুল্কসংগ্রহের বিভিন্ন বিধান

কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে বলা আছে যে শুল্কাধ্যক্ষ শুল্কশালা অর্থাৎ শুল্ক সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট গৃহ নির্মাণ করবেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে চার বা পাঁচজন শুল্ক আদায়কারী ব্যক্তি শুল্কশালাতে বনিকদের বিষয় নিজ নিজ পুস্তকে নথিভুক্ত করবেন যে বনিকরা কারা, তারা কোথা থেকে এসেছেন, তাদের অঞ্চলে প্রবেশের সময় কোন অন্তপাল (frontier officer) তাদের পরিচয় পত্র যাচাই করেছে ইত্যাদি।[28] এছাড়াও সড়ক থেকে রাজস্য কীভাবে অর্জন করা হত তারও আলোচনা অর্থশাস্ত্রে রয়েছে যেমন অন্তপাল একটি গাড়ি বোঝাই পণ্যের জন্য  ১১/৪ পণ দাবি করবেন, এক ক্ষুর যুক্ত পণ্যবাহী পশুর জন্য ১ পণবর্তনী, পণ্যবহনকারী গবাদি পশুর জন্য  ১/২ পণ, ক্ষুদ্র পশুর জন্য ১/৪ পণ এবং কাঁধে পণ্যবহনকারী পুরুষের জন্য ১ মাষ (তাম্রমাষ) বর্তনী ধার্য করবেন।[29] মুদ্রা চিহ্ন রহিত পণ্যের জন্য বণিকদের দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হবে।[30] শুল্কাধ্যক্ষ কেবলমাত্র উপরে আলোচিত নিয়মের মাধ্যমে রাজস্ব উপার্জন করেন না বরং এই সকল ব্যবস্থার দ্বারা বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

৪.৮  কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে নৌপরিবহণ ব্যবস্থা

পরবর্তী আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নৌপরিবহণ। সেই যুগেও বৈদেশিক বাণিজ্যের চল ছিল। নৌ চলাচলের তত্ত্বাবধানে ‘নাবধ্যক্ষ’ নিযুক্ত থাকতেন যিনি সমুদ্র তথা নদীতে নৌচলাচল নিয়ন্ত্রন করতেন। জনসংযোগ ব্যবস্থা সুগম করতে সর্বদা প্রয়োজন নিয়ম ও বিধি।

নাবধ্যক্ষের কর্তব্য হল স্থানীয় অঞ্চলে সমুদ্রকূল নিকটস্থ নৌযান গুলির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা, সমুদ্র এবং নদীর সংগমস্থলে নৌ চলাচলের যোগ্য পথ, বিসরঃ (যে সকল স্থানে গ্রীষ্মে জল শুকিয়ে যায়) এবং নদী সংতরণপথ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করবেন।[31] বৈদেশিক নৌকা নিজেদের শুল্ক সংগ্রহকারী অঞ্চলে চলে এলে তাদের থেকে শুল্ক চেয়ে নেওয়ারও উল্লেখ অর্থশাস্ত্রে আছে।[32] নাবধ্যক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নিতে পারতেন যেমন যে সকল নৌকাতে হিংসাকারী চোর-দস্যুরা থাকবে সেই সকল নৌকা ধ্বংস করে দেওয়ার পরামর্শ আছে।[33]

Top of Form

Bottom of Form

Top of Form

Bottom of Form

উপসংহার

কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করা উচিৎ যে, ভারত যদিও স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয় আশাবাদী কিন্তু এই দেশ এখনও পর্যন্ত ক্ষুধার সমস্যাটি দূর করতে পুরোপুরি সক্ষম হয়নি। গবেষণা অনুযায়ী সাস্টেনেবেল ডেভেলাপমেন্ট গোল্স-এ (SDGs) অন্তর্ভুক্ত ক্ষুধার সমস্যাটি আমাদের ২০৩০ সালের মধ্যে সমাধান করতে হবে। গবেষণাতে দেখা গেছে যে ভারতবর্ষ যদিও বিশ্বের প্রধান খাদ্য উপাদানকারী দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিন্তু আমরা অন্য সেই সকল দেশের সঙ্গে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত যাদের উন্নত কৃষি উৎপাদন থাকা সত্তেও ক্ষুধার সমস্যার এখনো সমাধান হয়েনি। গ্লোবাল হাঙ্গার ইন্ডেক্স (Global Hunger Index) বিষয় ‘Concern Worldwide’ এবং ‘Welthungerhilfe’ দ্বারা যৌথ প্রকাশনার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে ভারতবর্ষ ১২২ টি দেশের মধ্যে ১০৭তম স্থানে রয়েছে।[34]

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (UN’s Food and Agricultural Organisation—FAO) 'দ্য স্টেট অফ ফুড সিকিউরিটি এন্ড নিউট্রিশন ইন দ ওয়ার্ল্ড, ২০২২ রিপোর্ট' (‘The State of Food Security and Nutrition in the World, 2022 Report’) অনুযায়ী, ভারতের ১৬ শতাংশ জনসংখ্যা অপুষ্টির স্বীকার এবং ৫৩ শতাংশ মহিলারা রক্তহীনতাতে ভোগেন।[35] ভারত সরকার একাধিক পরিকল্পনা এবং সামাজিক নীতি অনুসরণ করে জাতির ক্ষুধা মুক্তি এবং অপুষ্টি দূরীকরণে তৎপর।

দেশীয় সামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক মানুষ লাভ করবে যার ফলে তারা শুধু আত্ম-নির্ভর হবে না, তার সঙ্গে তাদের পরিবার ক্ষুধা এবং অপুষ্টির সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবে। যে সমস্ত সামগ্রী প্রস্তুত করতে ভারত পারদর্শী এবং বিশ্ব বাজারে যার চাহিদা আছে সেই সকল সামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধি হলে ভারতের পরিচয় শুধুমাত্র বিশ্বের দরবারেই হবে না বরং ভারত নিজের দেশীয় সামগ্রীর উৎপাদনের জন্য জনগণের কর্মসংস্থান এবং তাদের আর্থিক উন্নতির সাহায়ক হবে। ভারতবর্ষের এই লক্ষ লাভে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। প্রাচীন ভারতে যে এমনই চিন্তাধারার বিকাশ ঘটেছিল এবং তার বাস্তবায়ন আমরা কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের মাধ্যমে প্রমাণ পাই। এমনই সমস্ত প্রাচীন ভারতবর্ষের ঐতিহ্য, শিক্ষা এবং তার আধুনিক যুগোপযোগীতা তুলে ধরা ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরার বিশেষ লক্ষ এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র সেই লক্ষ সাধিত করতে সক্ষম। কৌটিল্য তাঁর দূরদৃষ্টির মাধ্যমে এমন এক রাজত্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বাস্তবায়ন করেছিলেন যা তার সকল নাগরিকগণের জন্য কল্যাণকারী হতে পারে।

নিবন্ধটির সমাপ্তি পর্বে স্বামী বিবেকানন্দকে আমরা স্মরণ করব। তিনি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন যে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ জনসাধারণের অবস্থার উপর নির্ভর করে। তাই আমাদের আত্ম-নির্ভর ভারত গড়তে জনগণের অবস্থার উন্নতি খুবই প্রয়োজন।  সেই লক্ষ লাভ করতে হলে আমাদের স্বামী বিবেকানন্দের নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করেত হবে যার উপর ভারতবর্ষের মঙ্গল নির্ভরশীল—

তাহাদিগকে [জনসাধারণ] উন্নত করিতে পারো? তাহাদের স্বাভাবিক আধ্যাত্মিক প্রকৃতি নষ্ট না করিয়া তাহাদিগকে আপানার পায়ে দাঁড়াইতে শিখাইতে পারো? তোমরা কি সাম্য, স্বাধীনতা, কার্য ও উৎসাহে ঘোর পাশ্চাত্য এবং ধর্ম-বিশ্বাস ও সাধনায় ঘোর হিন্দু হইতে পারো? ইহাই করিতে হইবে এবং আমরাই ইহা করিব। তোমরা সকলে ইহা করিবার জন্যই আসিয়াছ। আপানাতে বিশ্বাস রাখো। প্রবল বিশ্বাসই বড় বড় কার্যের জনক। এগিয়ে যাও, এগিয়ে যাও। মৃত্যু পর্যন্ত গরিব ও পদদলিতদের উপর সহানুভূতি করিতে হইবে—ইহাই আমাদের মূলমন্ত্র। এগিয়ে যাও, বীরহৃদয় যুবকবৃন্দ!(স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা,  ১৩৮৩, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃ.৩০৮)

শব্দসংক্ষেপ (Abbreviation)

CWSV 5: Vivekananda, Swami 2018. The Complete Works of Swami Vivekananda, vol.5: ‘Conversation and Dialogues’, 3rd edn. Mayavati: Advaita Ashrama.

তথ্যসূচী

ইংরেজি বই ও অন্যান্য তথ্যসূচী

Agarwal, B.B. (2023) ‘Government ministering the growth of the metal and mining sector’, The Times of India, 1 February. Available at: https://timesofindia.indiatimes.com/blogs/voices/government-ministering-the-growth-of-the-metal-and-mining-sector/ (Accessed: 05 August 2024).

Baru, S. (1983) ‘Self-Reliance to Dependence in Indian Economic Development’, Social Scientist, 11 (11), pp.35-46. doi:10.2307/3517074

Sidique, U. (2023) ‘Stuffed Granaries and Empty Stomachs: Hunger in India’, LSE, 27 February. Available at: https://blogs.lse.ac.uk/southasia/2023/02/27/stuffed-granaries-and-empty-stomachs-hunger-in-india/#:~:text=According%20to%20the%20UN%27s%20Food,age%20women%20also%20being%20anemic (Accessed: 06 August 2024).

Tata (no date) Jamsetji Tata wrote to Swami Vivekananda in which he recalled his conversation with him and shared his project of setting up a science research institute in India. Available at: https://www.tata.com/newsroom/jamsetji-tata-letter-to-swami-vivekananda (Accessed: 09 August 2024).

The Capital Net (2020) Atma Nirvar Bharat vs Swadeshi Movement: The Parallels. Available at: https://medium.com/thecapitalnet/atma-nirbhar-bharat-vs-swadeshi-movement-the-parallels-c2eda0643b22  (Accessed: 07 August 2024).

Tendulkar, Suresh D. (1974). ‘Planning for Growth, Redistribution and Self-Reliance in the Fifth Five-Year Plan-I’Economic and Political Weekly. 9 (1/2). ISSN 0012-9976

Tiwari, B.K (2020) ‘Changing scenario of Indian economy: 1947-2020’, The Pioneer, 16 August. Available at: https://www.dailypioneer.com/2020/sunday-edition/changing-scenario-of-indian-economy--1947-2020.html (Accessed: 08 August 2024).

Toppr (no date) Question: Which is the only industry in India which is self reliant?. Available at: https://www.toppr.com/ask/question/which-is-the-only-industry-in-india-which-is-self-reliant/ (Accessed: 09 August 2024).

বাংলা বইয়ের তথ্যসূচী

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা  (১৩৮৩) ষষ্ঠ খণ্ড, চতুর্থ সংস্করণ। কলকাতা: উদ্বোধন কার্যালয়।

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা  (১৯৬৪) তৃতীয় খণ্ড। কলকাতা: উদ্বোধন কার্যালয়।


সংস্কৃত বইয়ের তথ্যসূচী

श्रीमद्भगवद्गीता शांकरभाष्य हिन्दी-अनुवादसहित (२०७६)। श्रीहरिकृष्णदास गोयन्दका (अनुवादक)। गोरखपुर : गीताप्रेस।


[1]কুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্৷

অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন৷৷ ভগবদ্গীতা ২.২৷৷

ক্লৈব্যং মা স্ম গমঃ পার্থ নৈতত্ত্বয্যুপপদ্যতে৷

ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্ত্বোত্তিষ্ঠ পরন্তপ৷৷ভগবদ্গীতা ২.৩৷৷

[2]নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ৷

উভযোরপি দৃষ্টোঽন্তস্ত্বনয়োস্তত্ত্বদর্শিভিঃ৷৷ভগবদ্গীতা ২.১৬৷৷

অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি যেন সর্বমিদং ততম্৷

বিনাশমব্যয়স্যাস্য ন কশ্চিৎ কর্তুমর্হতি৷৷ভগবদ্গীতা ২.১৭৷৷

[3] শৃণ্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ।। শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ ২.৫।।

[4]নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ৷

ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ৷৷ভগবদ্গীতা ২.২৩৷৷

অব্যক্তোঽয়মচিন্ত্যোঽয়মবিকার্যোঽয়মুচ্যতে৷

তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমর্হসি৷৷ভগবদ্গীতা ২.২৫৷৷

[5] শ্রীশঙ্করাচার্যের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উপোদ্ঘাতভাষ্য (श्रीमद्भगवद्गीता शांकरभाष्य हिन्दी-अनुवादसहित, २०७६, पृ.१३)

[6] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজ ইংরাজি কবিতা, “Where there mind is without fear..” অনুবাদ করেছিলেন (নৈবেদ্য  হতে সংগ্রহীত)।

[7] (The Capital Net, 2020)

[8] (Baru, 1983)

[9](Baru, 1983)

[10](Tiwari, 2020)

[11] (Tendulkar, 1974)

[12] আকরাধ্যক্ষঃ শুল্বধাতুশাস্ত্ররসপাকমণিরাগজ্ঞস্তজ্জ্ঞসখো বা তজ্জাতকর্মকরোপকরণসম্পন্নঃ কিট্টমূষাঙ্গারভস্মলিঙ্গং বাঽঽকরং ভূতপূর্বমভূতপূর্বং বা ভূমিপ্রস্তররসধাতুমত্যর্থবর্ণগৌরবমুগ্রগন্ধরসং পরীক্ষেত॥০২.১২.০১॥

[13]ধাতুসমুত্থং তজ্জাতকর্মান্তেষু প্রয়োজয়েত্॥০২.১২.১৮॥        

[14]খন্যধ্যক্ষঃ শঙ্খবজ্রমণিমুক্তাপ্রবালক্ষারকর্মান্তান্ কারয়েত্, পণনব্যবহারং চ॥০২.১২.২৭॥

[15] (Agarwal, 2023)

[16]লক্ষণাধ্যক্ষশ্চতুর্ভাগতাম্রং রূপ্যরূপং তীক্ষ্ণত্রপুসীসাঞ্জনানামন্যতমমাষবীজযুক্তং কারয়েত্—পণমর্ধপণং পাদমষ্টভাগমিতি, পাদাজীবং তাম্ররূপং—মাষকম্ অর্ধমাষকং কাকণীম্ অর্ধকাকণীম্ ইতি চ॥০২.১২.২৪॥

[17]গান্ধীজী এবং তাঁর ৪০ জন অনুসারী সবরমতি আশ্রম থেকে উপকূলীয় শহর ডান্ডি (গুজরাটে অবস্থিত) যাত্রা করেন যেখানে তারা সমুদ্রেরে তীরে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক লবণ সংগ্রহ করেন এবং সমুদ্রের জল ফুটিয়ে সামুদ্রিক লবণ উৎপাদন করে সরকারী আইন ভঙ্গ করেন।

[18] লবণাধ্যক্ষঃ পাকমুক্তং লবণভাগং প্রক্রয়ং চ যথাকালং সঙ্গৃহ্ণীয়াদ্, বিক্রয়াচ্চ মূল্যং রূপং ব্যাজীং চ ॥০২.১২.২৮॥

[19]বিলবণমুত্তমং দণ্ডং দদ্যাদ্, অনিসৃষ্টোপজীবী চান্যত্র বানপ্রস্থেভ্যঃ ॥০২.১২.৩২॥

[20]সুবর্ণাধ্যক্ষঃ সুবর্ণরজতকর্মান্তানামসম্বন্ধাবেশনচতুঃশালামেকদ্বারামক্ষশালাং কারয়েত্॥০২.১৩.০১॥

[21] বিশিখামধ্যে সৌবর্ণিকং শিল্পবন্তমভিজাতং প্রাত্যয়িকং চ স্থাপয়েত্॥০২.১৩.০২॥

[22] অক্ষশালামনাযুক্তো নোপগচ্ছেত্ ॥০২.১৩.৩০॥

[23]গৃহীতং সুবর্ণং ধৃতং চ প্রয়োগং করণমধ্যে দদ্যাত্ ॥০২.১৩.৩৫॥

[24] বর্ণহীনে মাষাবরে পূর্বঃ সাহসদণ্ডঃ, প্রমাণহীনে মধ্যমঃ, তুলাপ্রতিমানোপধাবুত্তমঃ, কৃতভাণ্ডোপধৌ চ ॥০২.১৪.১০॥

[25] সূত্রাধ্যক্ষঃ সূত্রবর্মবস্ত্ররজ্জুব্যবহারং তজ্জাতপুরুষৈঃ কারয়েত্ ॥০২.২৩.০১॥

[26](Toppr, no date)

[27]পণ্যাধ্যক্ষঃ স্থলজলজানাং নানাবিধানাং পণ্যানাং স্থলপথবারিপথোপযাতানাং সারফল্গ্বর্ঘান্তরং প্রিয়াপ্রিয়তাং চ বিদ্যাত্, তথা বিক্ষেপসঙ্ক্ষেপক্রয়বিক্রয়প্রয়োগকালান্॥০২.১৬.০১॥

[28] শুল্কাধ্যক্ষঃ শুল্কশালাং ধ্বজং চ প্রাঙ্মুখমুদঙ্মুখং বা মহাদ্বারাভ্যাশে নিবেশয়েত্ ॥০২.২১.০১॥

শুল্কাদায়িনশ্চত্বারঃ পঞ্চ বা সার্থোপযাতান্ বণিজো লিখেয়ুঃ–কে কুতস্ত্যাঃ কিয়ত্পণ্যাঃ ক্ব চাভিজ্ঞানং মুদ্রা বা কৃতা ইতি ॥০২.২১.০২॥

[29] অন্তপালঃ সপাদপণিকাং বর্তনীং গৃহ্ণীয়াত্ পণ্যবহনস্য, পণিকামেকখুরস্য, পশূনামর্ধপণিকাং ক্ষুদ্রপশূনাং পাদিকাং, অংসভারস্য মাষিকাম্ ॥০২.২১.২৪॥

[30] অমুদ্রাণামত্যয়ো দেয়দ্বিগুণঃ ॥০২.২১.০৩॥

[31] নাবধ্যক্ষঃ সমুদ্রসমংযাননদীমুখতরপ্রচারান্ দেবসরোবিসরোনদীতরাংশ্চ স্থানীয়াদিষ্ববেক্ষেত ॥০২.২৮.০১॥

[32]সংযাতীর্নাবঃ ক্ষেত্রানুগতাঃ শুল্কং যাচেত ॥০২.২৮.১১॥

[33]হিংস্রিকা নির্ঘাতয়েত্, অমিত্রবিষয়াতিগাঃ পণ্যপত্তনচারিত্রোপঘাতিকাশ্চ ॥০২.২৮.১২॥

[34](Sidique, 2023)

[35](Sidique, 2023)

Authored by . Published by,